![]() |
| শীতের সময় সুটিয়া গ্রামে আগুন পোহানোর দৃশ্য |
বিকেলের কণ্ঠস্বর ডেস্ক : ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতুচক্রের দিক থেকে বাংলাদেশের আবহাওয়া সাধারণত সমভাবাপন্ন হলেও দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জলবায়ুতে দেখা যাচ্ছে চরমভাবাপন্নতার স্পষ্ট ছাপ। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জেলা এবং খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে আবহাওয়ার এই কঠোর রূপ সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে। এসব অঞ্চলের আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য অনেক ক্ষেত্রে মরুভূমির জলবায়ুর সঙ্গে মেলে যায়।
এই চরমভাবাপন্ন অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ঋতুভিত্তিক ও দৈনিক তাপমাত্রার বিশাল তারতম্য। গ্রীষ্মকালে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায়ই এসব এলাকায় বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়। আবার শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদও নেমে যায় এসব এলাকাতেই। বর্ষার আগের দিনগুলোতে দিনে তীব্র গরম এবং রাতে হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গিয়ে ঠাণ্ডা পড়ে, যা সাধারণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
![]() |
| দত্তনগর বিএডিসি-র সেচ পাম্প হাউজে গোসলের দৃশ্য |
আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এই বৈপরীত্য তৈরি হয়। শীতকালে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শৈত্যপ্রবাহ প্রথম এসব সীমান্ত জেলা দিয়েই দেশে প্রবেশ করে, ফলে শীতের তীব্রতা বাড়ে। অন্যদিকে, গ্রীষ্মকালে ভারতের বিহার অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে আসা শুষ্ক ও তপ্ত বাতাস এসব জেলায় প্রবেশ করে সৃষ্টি করে তীব্র তাপদাহ। এই বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার ফারাক অনেকটা মরুভূমির মতো চরম রূপ নেয়।
তবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই চরমভাবাপন্ন রূপের বিপরীতে উপকূলীয় অঞ্চল এবং সিলেট বিভাগের আবহাওয়া অনেকটাই মৃদুভাবাপন্ন। সেখানে সমুদ্র ও পর্যাপ্ত জলাধারের উপস্থিতির কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ফারাক বা চরম ভাব এতটা দেখা যায় না।


0 Comments